এই লেখাটি 767 বার পড়া হয়েছে

নাট্যকারের কথা ও নাটকের সার সংক্ষেপ

নাট্যকারের কথা

 

আমার “কর্মফল” নাটকটি বৌদ্ধ জাতকের ‘মহা বাণিজ’ কাহিনী থেকে নেওয়া। মূলতঃ জাতকের কাহিনী থেকে নাটক লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন শ্রদ্ধেয় পুজনীয় ভিু ভেনাঃ শ্রীইন্দ্রগুপ্ত ভান্তে। তিনি মাঝে মধ্যে ফোনে আমাকে ডেকে নিয়ে নানা ধরণের ধর্মীয় বই পুস্তক আমাকে উপহার দিতেন। অনেক সময় ফোনেই এ বিষয় নিয়ে আমার সাথে আলাপ করতেন। তিনি আলাপের মধ্যে সবসময় একটা কথা বলতেন “সব কাজ সব জনের দ্বারা সম্ভব নয় ; পারমী লাগে” মূলত তাঁর এ কথার মধ্যেই আমার সাহস আমার শক্তি আমার অনুপ্রেরনা। এতো গেল শ্রদ্ধেয় ভান্তের কথা। সম্ভবত পারমী পূর্ণ হওয়ার ফসল স্বরূপ আমার এই নাটক “কর্মফল”। এই জন্য শ্রদ্ধেয় পুজনীয় ভিু ভেনাঃ শ্রীইন্দ্রগুপ্ত ভান্তেকে সশ্রদ্ধা প্রণাম ।

 

মৃত্তিকা চাকমা

০৮/০৩/২০১১ খ্রিঃ

 

 

নাটকের সার সংপে

 

বারানসী রাজ্যের রাজা ব্রক্ষ্মদত্তের রাজত্বকালে একবার বণিকেরা জোট বেধেঁ ঠিক করল রাজ্যের ধনসম্পদ টাকা পয়সা আয় রোজগার বাড়ানোর জন্যে বর্হিবিশ্বে বানিজ্য সম্প্রসারণ করা উচিত। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিলো রাজ্যের বিখ্যাত পাঁচশত বনিক বানিজ্যে যাবে।

 

পরিবার এবং তাদের বানিজ্যের কাজ গুছিয়ে নিয়ে একদিন যাত্রা শুরু করলো। গাড়ি বোঝাই করে যেতে যেতে পথে পড়লো এক বিশাল অরন্য। চারিদিকে শুধু বৃরাশি। কোথাও কোন সারাশব্দ নেই। এক সময় তারা পথ হারিয়ে ফেলে। অনেক কষ্ট করার পরও তারা বের হওয়ার রাস্তা পেল না। এমনিভাবে এক সময় ফুরিয়ে যায় তাদের গাড়ি বোঝাই খাদ্য বস্তুসহ নানাবিধ জিনিষপত্র।

 

কান্ত অবস্থায় তারা এক বিরাট বৃরে নিচে আশ্রয় নেয়। হঠাৎ তাদের মধ্যে একজন দেখতে পেলো বৃরে পাতা থেকে পানি ফোটা ফোটা করে ঝরে পড়ছে। রহস্য প্রখত হয়ে ওঠলো এই গাছের মধ্যে কি আছে? পরণে তারা ঠিক করলো গাছের পুর্ব প্রান্তের ডালটা কেটে ফেললে কি হয় এবং তারা কাটলো। কাটার সাথে সাথে বেরিয়ে এলো ফোয়ারার মত সুপেয় পানি। তারা ঐ পানি দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণসহ যাবতীয় ময়লা কাপড় চোপড় ধুয়ে ফেলে মহা আনন্দিত হয়।

 

এভাবে গাছের সব ডালগুলো কাটার পর গাছটি শিকড়সহ উপড়ে ফেলার পায়তারা শুরু করলো তখন দলনেতার সাথে বিরোধ বাঁধে। নেতার বাঁধা দেওয়া সত্বেও যখন গাছের গোড়ায় দা-খুড়াল বসায় তখন বৃরাজা নেপথ্যে বলে উঠে ‘এতকিছু দেওয়ার পরও যখন মনে তৃপ্তি নেই, তোমাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আর কোন অধিকার নেই”। তারপরও বৃরাজের কথা কর্ণপাত না করে গাছের গোড়ায় কোপ বসায়। সাথে সাথে মাটির ভেতর থেকে শয়ে শয়ে বৃরাজের সৈন্য বাহিনী বেরিয়ে এসে বণিকদের উপর আক্রমণ চালায় এবং মুহুর্তের মধ্যে ঢলে পড়ে দলনেতা পঞ্চরতন বাদে সবাই। পড়ে রইল পশু-পাখির খাদ্য হয়ে এবং দলনেতা পঞ্চরতনকে সম্মানের সাথে বিপুল ধনরতœসহ গাড়ি বোঝাই করে সৈন্যরা বারানসী নগরে পৌঁছে দেয়।

Print Friendly, PDF & Email

এই বিভাগের আরো লেখা পড়তে নিচের দেওয়া শিরোনাম এ ক্লিক করুন

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*
*