এই লেখাটি 1,096 বার পড়া হয়েছে

প্রসঙ্গঁ পার্বত্য চট্টগ্রামঃ কবিতায় জুম্ম নারী। মৃত্তিকা চাকমা

প্রসঙ্গঁ পার্বত্য চট্টগ্রামঃ কবিতায় জুম্ম নারী। মৃত্তিকা চাকমা

পার্বত্য চট্টগ্রামে বহু দুঃখ বেদনা, হাসি-কান্না জড়িয়ে রয়েছে বৃটিশ শাসনামল থেকে বর্তমান সরকার পর্যন্ত। এখানে বহু জাতির বহু ভাষার সম্মেলন। তার মধ্যে চট্টগ্রামের ভাষাও কথ্য ভাষা রূপে প্রতি পাহাড়ে ভাঝে ভাঝে নিবিড় ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। লেখ্য এবং সাহিত্যে রূপ খাঁটি বাংলা বহু দিন থেকে প্রচলন রয়েছে। আজকে বিশ্ব পার্বত্য চট্টগ্রাম কেনা জানে। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য লড়াই সূচনা করেছিলেন জুম্মদের প্রাণ প্রিয় নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা তৎকালীন শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে। এ লড়াই অব্যাহত রেখেছেন প্রয়াত নেতার অনুজ বর্তমান জনসংহতি সমিতির সভাপতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিয়দের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

সামন্তবাদ, আদিপত্যবাদ, ধর্মান্দতা এবং উগ্র মৌলবাদের বিরুদ্ধে আজম্ম লড়াই করতে হবে পার্বত্য জুম্ম জরগণের।  লড়াই এ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছিল গভীর অরণ্যে প্রয়াত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা সহ তাঁর কয়েক সহযোগী। তাঁদের কর্ম এবং আদর্শকে উজ্জল রাখার জন্য প্রতিবার স্মরনিকা সহ কিছু  বুলেটিন প্রকাশ করা হয়। এ জাতীয় প্রকাশনা থেকে বেরিয়ে আসছে কলম সৈনিক। তাঁদের মধ্যে থেকে যে ক’জন জুম্ম নারীর কবিতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালার কথা উদ্ভাসিত হয়েছে সে গুলোর আলোকপাত করছি সামান্য মাত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৮৩  সালে কিছু কুচক্রীর হাতে জুম্ম জাতির প্রাণ প্রিয় নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা প্রাণ সংহার কোন দিন ভুলার মত নয়। সেই চক্রান্তকারীদের  কে উদ্দেশ্য করে লেখা শ্রী নাক্যবির ১৯৯৪ সালের স্মরনিকায় প্রকাশিত কবিতায় আমরা দেখি-

এক যে ছিল লাম্বা
দিচ্ছিল সে বাম্বু
নিজেই হলো ঠান্ডা
খেয়ে এক যা ডান্ডা
————–
বলে দেশ পরাধীন
তিন মাসে স্বাধীন।
এই তার তন্ত্র
দ্রুত নিষ্পত্তির মন্ত্র।

শ্রী নাক্যবির এই ছড়া কবিতাটি এমনভাবে ফুটে উঠেছে, যা আগামী প্রজম্মের জন্য বিভেদপন্থীদের দলিল চিত্র তুল্য। ভার রয়ে গেল আগামী প্রজন্মের এ হত্যা কেন? এবং কিসের জন্য? কার স্বার্থের জন্য? তাহলে কি সত্যি—

ফিস টিস চাইনা কিছু
চাইনা আমার তোষামোদ
জনগণের অডেল টাকার
করতে পারো আমো-প্রমোদ

শান্তিচুক্তির আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা খোলা-মেলাভাবে যেখানে-সেখানে বলা কল্পনাতিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গঁ নিয়ে কোন লেখক কবির প্রতিষ্ঠিত নামে লেখা দেখা যায়নি, কেবলমাত্র দেখা গিয়েছে ১৯৯৫ সালের ১০ নভেম্বর একটি বুলেটিন সংখ্যায় কবিতা চাকমা ‘জ্বলি ন’ উধিম কিত্তেই’ কবিতা দিয়ে। তাঁর এই কবিতাটির নামে একটি কাব্য গ্রন্থ বের হয়েছে। সম্ভবত উক্ত গ্রন্থটি ইংরেজী ভাষায়ও প্রকাশ হয়েছে। এখানে চাকমা এবং বাংলায় লেখা কবিতার কিছু অংশ তুলে দেওয়া গেল–

জ্বলি ন’উধিম কিত্তেই!
যিয়ান পরানে কয় সিয়েন গরিবে-
বর্ষত্তান বানেবে বিরান ভূমি
ঝাড়ান বানেবে মরুভুমি,

গাভুর বেলরে সাঝ
সরয মিলেরে ভাচ্।
বাংলায়-
রুখে দাড়াব না কেন!
যা ইচ্ছে তাই করবে-
বসত বিরান ভুমি
নিবিড় অরন্য মরুভুমি,
সকালকে সন্ধ্যো
ফলবতিকে বন্ধ্যা

কবিতা চাকমা যখন তাঁর কাব্য  হ্নদয়ে চিৎকার করে উঠলেন সারা পার্বত্য চট্টগ্রামের আকাশে-বাতাসে তখনই সুশ্রী উজানার অনুভুতি-

আমরা কি শুধু নারী হয়ে থাকবো?
আমাদের তো আছে সব কিছু
চোখ, কান, নাক, হাত, পা
আর রক্তে মাংসে ভরা অনুভুতি
————————-
পার্বত্য জননীর চোখ আজ করুণ অনুভুতি
জুম্ম জাতি আজ বিলুপ্ত প্রায়।
তাইতো বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ হয়ে
আজ জ্বলে উঠবো কি?

সুশ্রী উজানা শুধু“নারীকে জ্বলে উঠার আকুতি জানাননি বলতে হবে সমগ্র জুম্ম জাতিকে। জ্বলে না উঠলে এই মহাবিশ্ব থেকে ধ্বংস হয়ে যেতে আর বেশী সময়ের দরকার হবে না। সুতরাং আর নয় নির্বিকার।

১৯৯৬ সাল পার্বত চট্টগ্রামের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত একদিকে সরকারের সাথে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া অন্যদিকে জুম্ম জনগণের উৎকন্ঠা। এরি সময়ের মধ্যে প্রয়াত নেতার স্মরণ সারিতে শ্রীমতি কৃপা, কুমারী চিত্রা আর কুমারী নি®কৃতির কবিতায় আমাদের প্রেরনা যোগায়-আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার আদায়ের লক্ষে

পার্বত্যবাসীর জীবন
বুলেটের শব্দে আর বারুদের গন্ধে
মিছিল আর শুধু লড়াইয়ে
———————-
জুম্ম জাতি রয়েছে জড়িত
আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

কুমারী চিত্রার একদিকে রণহুংকার অন্যদিকে জুম্ম ভাইদের প্রতি আবেদন।
হে প্রিয় জুম্ম, ভায়েরা তোরা কেন নিরব?
ক’দিন রবে নিঃস জুম্ম জাতি নির্যাতনে
“ দাড়াও না। জাগিয়ে উঠ। ধরো অস্ত্র”।

কবি নিরোদ রায় যেমন বলেছিলেন ভারত বর্ষের মানুষকে “আত্মঘাতী বাঙ্গালী”। কেন নবাব সিরা-উদ-দৌলা, মহাত্মাগান্ধী আর শেখ মুজিবর রহমানের ইতিহাস পাঠ করলে সেই উত্তর পাওয়া যায়। এই সেই আত্মঘাতী শব্দটা জুম্মদের মধ্যে নিভিরভাবে শোভা বর্ধন করছে। কি চমৎকার ! তাই কুমারী নি®কৃতি আঙুল উচিয়ে বলতে চান

দেখো দেখো জ্বলছে দাও দাও করে
শাসকের কলঙ্কিত বাহুতে দিচ্ছে পুড়ে
জুম্ম জাতির প্রিয় আবাস

এ সাহস তারা কি পাবে! আমরা যদি আত্মঘাতী না হঠাম। আমরা যদি এখানে বসতি স্থাপনের সার্টিফিকেট না দিতাম! আমরা যদি অন্যের দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে নেতাকে হত্যা না করতাম!

পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যা পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম নারীর মধ্যে একটি পারিচিত নাম। জনসংহতি সমিতির প্রকাশনা বাদেও তার বিচরণ বহু জায়গায় রয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে আমরা সাধারণ পাঠকরা তাঁর “শ্রদ্ধাঞ্জলী” কবিতায় দেখি–

রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, হিংস্র জানোয়ার মোকাবেলা করে
কাটাও তোমরা নিদ্রহীনতায় দিনের পরদিন গভীন বনে,
হয়তো মেলেনা খাবার, তীর ুদা নিয়ে থাকো অভুক্ত, তবুও
জুম্ম জাতির স্বাধীকার পাবে, ফুটবে মুখে হাসি ভেদে হও আনন্দিত।

এখানে স্নেহ ময়ী মাতৃতুল্যর মত উক্তি। কি নির্মম! পরাধীনতার কড়ালগ্রাস থেকে জুম্মজাতের মুক্তির জন্য শত্র“ হননের অপোয়। একবিংশ শতাব্দীতে এসে পারুমিতা তঞ্চঙ্গ্যাঁ তার আরো  ‘সে একজন’ কবিতায়-

একজন মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল শকুনের বিরুদ্ধে
শকুনেরা বড় চালাক! ধরে তাকে পুরল জেলে
তবুও দমেনি, সে শুরু হয় নতুন ইতিহাস
——————————
নিজের রক্ত দিয়ে মাটির পিদিমে তেল দিয়ে গেলেন
কোন দিনও যেন নিভে না যায়  এই প্রদীপ্ত পিদিমের শিখা।
আত্মত্যাগী সে একজন প্রিয় নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা।

পারমিতা তঞ্চঙ্গ্যাঁর “ সে একজন” কবিতায় শেষ প্রান্তে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামের সেই কাপ্তাই বাঁধের ডুবে যাওয়া হাজার মানুষের আর্তনাদ প্রতি ধ্বনিত হয়ে উঠেছে পাহাড়ের প্রতিটি কোনায় আর বৃরে ডাল পালায়। এ ছাড়াও কাপ্তাই বাঁধকে নিয়ে তার আরো একটি আলাদা কবিতায় হাজার মানুষের বেদনা কথা ফুটে উঠে। এ বাঁধ নির্মানের  ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জল মগ্ন হয়ে পড়ে, বিলিন হয়ে যায় সেই আবাদ যোগ্য জমির প্রায় ৪০ শতাংশ। রাঙ্গামাটির বৌদ্ধ মন্দির, চাকমা রাজবাড়ী, স্কুল  ইত্যাদি। উদ্ভাস্তু হয়ে পড়ে প্রায় একল জুম্ম জনগণ।

কাপ্তাই তোমার সৌন্দর্য আমাদের হ্নদয় বিমোহিত করেনা,
পূর্ব পুরুষের অশ্র“ মিশেছে তোমার জলরাশিতে
লাধিক তিগ্রস্ত মানুষের দীর্ঘশ্বাস কেবলই তাড়িয়ে বেড়াই আমাদের হ্নদয়কে।

এই বেদনা প্রকাশ পেয়েছে তার আরো এক কবিতায় সবুজ পাহাড়ের সন্তান এ। পার্বত্য চট্টগ্রাম সবুজে ভরা। এখানকার মানুষের মন ও প্রকৃতির মতন। কিন্তু এই মনের মানুষের সুখে থাকতে দেয়নি নিত্য দিনের ধর্মীয় আচার আচরণ থেকেও।

পবিত্র ক্যায়াঙ ঘরে বুটের ছাপ,
নিষ্পাপ শিশুর পদদলিত দেহ

মায়ের সম্ভ্রম হারানো গগন বিদারী চিৎকার
তারপরও মনে এবং দেহে শক্তি যোগায় কবিতায় শেষ প্রান্তে এসে

অসহায় পাহাড় সন্তান মাথা তুলে দাঁড়ায়
দানব রুখবে কঠোর হাতে
সবুজ পাহাড় শক্তি যোগায়।

কবিতায় জুম্ম নারী আরো একটি নাম অরুমিতা চাকমা। একবিংশ শতাব্দীতে প্রয়াত মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা স্মরণ সারিতে অরুমিতা চাকমার “মনে পড়ে”

জট পাকিয়ে হন হন করে কালো মেঘ যখন
হেঁটে যায় আকাশের বুকে,
হালকা কালো মেঘে যখনই ঢাকা পড়ে চাঁদ
তখনই আমার মাধুরী হ্নদয়ের সুন্দর বাসনা গুলো
প্রচন্ড এক  ঢাক্কা মেরে প্রতারনা করে বলে যায়।
অরুমিতার চাকমা প্রচন্ড ঢাক্কার মধ্যে “পদ শব্দ” শুনতে পান আরো অন্য কবিতায়।
নিঃশব্দ দুপুরে বুটের ছায়ায় শুনেছি তার কথা-
শান্ত-দীপ্ত-বলিষ্টতায় ভরা সে মুখ
সেদিন ব্যাথায় হু হুকরেছিল হ্নদয়,বলেছে সে
অনেক পাহাড় অজও দাউ দাউ করে জ্বলছে,শুধু জ্বলছে
——————————-
যখন তারার মেলায় আকাশ ভরে যায়
আমার অস্তিত্বে আমি তার নিঃশ্বাস টের পাই।
অপর দিকে মহিলা সমিতির মুখপত্র “জাগরন” এ “হে জুম্ম জাতি” তরী চাকমার কবিতায় জুম্ম জাতির কাছে শপথ বাক্যের মত বলতে শুনিÑ
হে জুম্ম জাতি
তোমার মাঝে আমি থাকতে চাই
তোমার এই আঁচল দিয়ে উঠেছি আমি
——————————-
হে জম্ম জাতি
তুমি থাকবে অমার মাঝে
চির অমৃত হয়ে।

জম্ম জাতি মানে স্বজাতি। এই যে স্বজাতির প্রতি তার প্রগাড় ভালোবাসা তার এই “হে জুম¥ জাতির” কবিতায় ফুটে উঠে। একই সময়ে জড়িতা চাকমার কল্পনা চাকমাকে স্মরণ করে লেখা “আজো তোমাকে মনে পড়ে” কবিতায় দেখতে পাওয়া যায় কল্পনা চাকমার প্রতি ভালোবাসার শ্রদ্ধা । তার রাজনৈতিক আদর্শ এবং চিন্তা চেতনা জড়িতা চাকমার কবিতায় স্ফুরণ ঘটিয়ে দেন।

স্বদেশ প্রেমের চিন্তা চেতনায়
নিপীড়িত নারী সমাজের প্রতিরোধ দুর্গ গড়েছো তুমি
তাই লিখে যাবো  তোমাকে নিয়ে শতাব্দীকাল ধরে
————————
রণাঙ্গঁণের সারিতে তুমি অগ্রগামী সৈনিক
তুমি অমর , তুমি অজয়, তুমি সমর,
তাইতো তোমাকে আজও মনে পড়ে।

কল্পনা চাকমা হারিয়ে গেছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে তার আদর্শ হারিয়ে যায়নি। যতদিন যতযুগ নির্জাতনে নিপীড়নে নিষ্পেষিত হয়ে থাকবে এই জুম্ম জাতি ততদিন কল্পনা চাকমা জুম্ম জাতির শরীরের প্রতিটি রক্তের কনিকায় সঞ্চালিত হয়ে থাকবে।

এই দিন দিয়ে গেলে প্রাণ
মহান নেতা এম.এন লারমা তাঁর সঙ্গীরা
জুম্মজাতির জন্য জীবন  উৎসর্গ করলো এরা
————————–
জাতির জণ্যে দিয়ে প্রাণ তারা হয়িছে ধন্য
কিন্তু তারা নেই আজ, এ যেন মহাশুণ্য।

ল্যরা চাকমার “তাদের স্মরণে” কবিতায় দেশ এবং মাতৃভুমির টানে যে নেতা জীবন উৎসর্গ করে গিয়েছিলেন তাদের স্মরণ করে আমাদের তথা সমগ্র জুম্ম জাতির মনের বেদনার কথা প্রকাশ পেয়েছে। “এখনও আমরা মানুষ” কবিতায় হঠাৎ নারী বাদী হয়ে অগ্নিস্ফুলিঙ্গেঁর মত ফুসে উঠলেন-

অমানুষিক উৎপীড়ন, বঞ্চনা, নির্যাতন?
কিন্তু সত্যি এভাবে ফুড়িয়ে গেলেতো চলবে না?
তাইতো চলে, চলো পৃথিবীর সর্বহারার দল(নারী)
—————————
আর নয় নারী হওয়া নারী থাকা
এবার আমরা মানুষ।

আসলে ল্যরা চাকমার মত বিশ্বের সকল নারীই প্রতিবাদী হওয়া উচিত। নারী হয়ে জম্ম হয় বলে কী নারী হতে হবে। অবশ্যই নয়। নারী মানুষ এবং সকল নারীর এই বোধ অর্জন করা দরকার। তাই তাঁর আরো এক কবিতায় মানুষের কাছে  আবেদন “ এসো আমরা এক হই”

এসো দশ ভাষাভাষি আবার ও এক হই,
সমস্ত কান্তি অবসাদ মুছে
আমাদের সোনার মাটির দিকে চেয়ে
স্মিতস্বরে নয়, উদাত্ত কন্ঠে বলো
আমরা স্বাধীন নিরাপদ জীবন চাই।

অলকা চাকমার জ্যাসির “অত্যাচার” এ ফুটে উঠেছে জুম্ম জাতির করুন আর্তনাদ। বাজপাখী যেমন থাবা মেরে শিকার বা খাদ্য ছোঁ মেরে নিয়ে যায় তেমনি–
পবিত্র ধর্মস্থান, বিশাল মাটির ঘর কাঠের বাড়ী
বাশের মাচাং নিমেষে কয়লা পিন্ডের রূপ করে ধারণ
চেঙে মেয়নী, কাজলং, কাউখালী লংগদু সুবলং

রেহাই পাবোনা সেই বাজপাখী থাবায় জুম্ম নারী। সুকৌশলে হরণ করে নিয়ে যাচ্ছে সর্বসত্ত্বা। অলকা চাকমার “অত্যাচার” থেকে জুম্ম নারী সারা পার্বত্য এলাকায় বিস্ফোরিত হওয়া অতীব জুরুরী-। কেন-
সেই তীক্ষ্ণ  ঠোঁই থেকে রেহাই পাচ্ছে না জুম্ম মেয়েরা
নিপুন কৌশলে জুম্ম মেয়েদের জীবন
করছে চিরতরে পঙ্গু।

২০০৪ সালের শেস প্রান্তে এম.এন লারমার স্মরণ সারিতে এসে জ্যোতি প্রভা লারমা মিনুর আবেদন
সৈরাচারী রাষ্ট্রের কুশাসন, মৌলবাদের দাপটে
বিধস্ত অভিশপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রামÑ
—————–
লুন্ঠিত অধিকার করতে উদ্ধার
আদর্শ সমাজের অগ্রযাত্রায়।

জ্যোতিপ্রভা লারমার আহ্বানটা বেগবান হোক আত্মঘাতী, ভ্রাতৃত্বঘাতী একে অপারে কাটা-ছুড়া-ছুড়ি যেন বন্ধ হোক অতীসত্ত্বর । এবং শুরু করি একে অপরে মিলনের স্বর্গপুরি আমাদের এই পার্বত্য ভুমি।

Print Friendly

এই বিভাগের আরো লেখা পড়তে নিচের দেওয়া শিরোনাম এ ক্লিক করুন

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*
*